আত্মসমর্পণ চুক্তিতে রাজি দক্ষিণ সিরিয়ার বিদ্রোহীরা

সিরিয়ার যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও তাঁর মিত্র রাশিয়া আরেকটি বড় ধরনের বিজয় অর্জন করতে যাচ্ছে। গত শুক্রবার দক্ষিণ সিরিয়ার বিদ্রোহীরা রাশিয়ার মধ্যস্থতায় করা চুক্তিতে অস্ত্র সমর্পণ করতে রাজি হয়েছে। এর মাধ্যমে দেরা প্রদেশেও প্রেসিডেন্ট আসাদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা হচ্ছে।

সিরিয়ার সরকারি বাহিনী জর্দানের সঙ্গে সিরিয়ার সীমান্ত ক্রসিং নাসিব পুনরুদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। তিন বছর ধরে ক্রসিংটি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ অভিযানে রাশিয়ার বাহিনী বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে সরকারি বাহিনীকে সমর্থন জুগিয়েছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বিদ্রোহীরা তাদের অধিকৃত সব শহর-নগরে মোতায়েন করা ভারী ও মাঝারি অস্ত্র সমর্পণ করতে রাজি হয়েছে, যা আত্মসমর্পণ চুক্তিতেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিদ্রোহীদের সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর অভিযানের মুখে ওই এলাকাগুলো ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া বেসামরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের নিশ্চয়তা দিয়েছে রাশিয়া।

এ লড়াইয়ে দেরা ছেড়ে তিন লাখ ২০ হাজার বেসামরিক পালিয়ে গিয়েছিল। সিরিয়ার লড়াই শুরু হওয়ার সাত বছর পর দেশটির বেশির ভাগ এলাকা এখন প্রেসিডেন্ট আসাদের নিয়ন্ত্রণে। মিত্রদের সহায়তায় এই সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। তবে দেশটির উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ ও পূর্বাঞ্চলের একটি অংশ এখনো তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়ে গেছে। ওই এলাকাগুলোতে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি থাকায় সেখানকার পরিস্থিতি জটিল হয়ে আছে। জুনের মাঝামাঝি থেকে দেরায় অগ্রসর হতে শুরু করেছিল আসাদ বাহিনী। এর পর থেকে প্রদেশটির বড় একটি অংশ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

নাসিব ক্রসিং পুনরুদ্ধার হওয়ায় আসাদের সামনে বাণিজ্যের একটি প্রধান রুট ফের চালু করার পথ খুলে গেল। সিরিয়ার অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন ও সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর পুনর্নির্মাণে আসাদের পরিকল্পনায় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। আত্মসমর্পণ করা বিদ্রোহীদের একটি অংশ রাশিয়ার নিশ্চয়তায় সাবেক বিদ্রোহী হিসেবে রাষ্ট্রীয় আইনের অধীনে দেরাতেই থেকে যাওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে বলে বিদ্রোহীদের একটি সূত্র জানিয়েছে।

কিন্তু যেসব বিদ্রোহী আসাদের শাসনে আর ফিরে আসতে চায় না তারা দেরা ছেড়ে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে চলে যাবে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*