বিয়ের রাতে ও ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমালো, আমার ফুলশয্যা…

আমাদের মিল হতো সপ্তাহে একবার বা দুই সপ্তাহে। কিন্তু তারপরও আমি প্রেগনেন্ট হয়ে যাই। আর তখন থেকেই ও আমাকে অনেক কেয়ার নেয়।

কিন্তু আপু ওর সেক্সের প্রতি অনীহাটা থেকেই গেছে। আমার ছেলের বয়স তিন মাস ১৫ দিন হলো কিন্তু তিনবার আমাদের মিলন হয়েছে। আমরা

দুইজন ছেলের দুই পাশে থাকি। আমার মন খারাপ দেখলে ও মেনে নিতে পারে না। আমাদের কখনো ঝগড়া হয় না খুব ভালো বন্ধু আমরা। কিন্তু আমার যে অনেক কষ্ট হয় ও নিজে থেকে আমাকে টাচ পর্যন্ত করে না।

আমি কী করব? আপু, এই কষ্টগুলা কেউ দেখতে পায় না। আমি শেষ হয়ে গেলাম। প্লিজ আপু, আমাকে একটি পরামর্শ দিন।

আপু, আমার মনে হয় আপনার সুখী হওয়া উচিত যে আপনি একজন চমৎকার মনের মানুষ পেয়েছেন। মানুষটি হুট করেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন নাই, সময় দিয়েছেন নিজেকে। এটা তাঁর চিন্তাশীল মনের লক্ষণ। অন্যদিকে আপু, তিনি যে আপনার কেয়ার করেন, কখনোই ঝগড়া হয় না এই সবই কিন্তু প্রকাশ করে যে তিনি একজন ভালো মানুষ যে নিজের স্ত্রী-পুত্রকে ভালবাসে। একটি জিনিস মনে রাখবেন আপু, শরীরের চাহিদাই সব না। অসংখ্য পুরুষ আছে যারা মেয়েদের সাথে সম্পর্ক করে কেবল সেক্সের আশায় আর সেই চাহিদা মিটে গেলে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। বহু স্বামী আছে যাদের কাছে স্ত্রীর দরকার কেবলই বিছানায়! আপনি ভেবে খুশি হন আপু যে আপনার স্বামী এমন নন। তিনি শরীরের চাহিদা ছাড়াই আপনাকে ভালোবাসেন, আপনার মনকে ভালোবাসেন।

দ্বিতীয় কথা আপু, মানুষ মাত্রই তাঁর শারীরিক চাহিদা ও প্রকাশ ভঙ্গি ভিন্ন। আপনি হয়তো চান যে স্বামী নিজে থেকে এগিয়ে এসে আপনাকে আদর করুক। হয়তো দেখা যাবে স্বামীও মনে মনে এটাই চান যে আপনি নিজে থেকে তাঁর কাছে যান। পুরুষ মানেই আপু শরীরের ওপর হামলে পড়া না, অনেকের কাছেই প্রকাশভঙ্গি ভিন্ন। অনেকের মাঝেই জড়তা কাজ করে। সারাদিন বাইরে কাজ করে এসে স্বামী ক্লান্ত থাকেন, এমনও হতে পারে যে তিনি মনে করেন বাচ্চাকে নিয়ে আপনার অনেক খাটুনি যায়… এই জন্য একটু দূরে থাকছেন। আপনাকে বিশ্রাম করার সুযোগ দিচ্ছেন। সপ্তাহে ২/৩ বার যৌন সম্পর্ক হওয়া খুবই স্বাভাবিক দাম্পত্যের লক্ষণ, এটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই। হ্যাঁ, আপনার শরীরের চাহিদাটা হয়তো একটু বেশি। সেক্ষেত্রে আপু, আপনি নিজে স্বামীর কাছে যাওয়ায় লজ্জার কিছুই কিন্তু নেই। আপনি তাঁর স্ত্রী, পরস্পরের প্রতি আপনাদের ১০০ ভাগ অধিকার আছে।

এছাড়াও আপু, আপনি সরাসরিও স্বামীর সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। তাঁকে জানাতে পারেন যে তাঁর আরও একটু বেশি ভালোবাসা আপনার চাই। আপনার স্বামী যে ধরণের মানুষ, অবশ্যই তিনি সেটা দেবেন। আর হ্যাঁ আপু, শারীরিক সম্পর্কে আকর্ষণ অনেক বড় একটা জিনিস। তাই স্বামীর চোখে নিজেকে যেভাবে আকর্ষণীয় মনে হয়, সেভাবেই প্রেজেনট করুন। আপনার দাম্পত্যে কোন সমস্যা নেই, এই সামান্য বিশয়কে সমস্যা না ভাবলেই মঙ্গল হবে।

পরামর্শ দিয়েছেন-
রুমানা বৈশাখী

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*