আমার প্রেমিক আমার থেকে তিন বছরের ছোট, ওকে বিয়ে…

দুবছর পর থেকে ও সবসময়ই বলতো যে ও আমাকে ভালোবাসে। আমি ওর কথা ফাজলামো করে উড়িয়ে দিতাম। কিন্তু গত একবছর ধরে আমি

ফাজলামো করে ওকে হ্যাঁ বলি। কিন্তু এখন পারিবারিকভাবে বিয়ের জন্য ছেলে দেখা হচ্ছে। আমার ধারণা যখন আমার বিয়ে হয়ে যাবে তখন

সম্পর্ক আর থাকবে না। ওকে ভুলে থাকতে হলে আমাকে একটু ব্যস্ততার মধ্যে থাকতে হবে। কিন্তু আমি একটা চাকরিও পাচ্ছি না। এদিকে আমার

বিয়েও হচ্ছে না। ওর নিজেরও ইতমধ্যে পড়াশোনা শেষ। ওর চাকরি হচ্ছে না বলে ও হতাশ। আমাকেও আমার পরিবার বাসার বাইরে তেমন কোথাও যেতে দেয় না। তাই সারাক্ষণই ওরসঙ্গেই কথা বলতাম। ওরসঙ্গে চারবছরে ছয়বার দেখাও হয়েছে।

ও চায় যেকোনো ভাবেই এই সম্পর্কটা থাকুক। আমি যদি বলি সম্পর্ক আর রাখব না, ও তখন কান্না করে। ও কে বলি- তুমি অন্য কোনো মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়াও; সেটাও ও করতে চায় না। ও বলে অন্য কোনো মেয়ের প্রতি ওর কোনো আকর্ষণ নেই। ও মাঝে মধ্যে বলে আমাকেই বিয়ে করবে। তখন আমি পিছিয়ে যাই, কারণ এই সম্পর্ক কোনো পরিবারই মেনে নেবে না; আমি জানি। আর আমি দেখতে সুন্দর না। সেজন্য নিজের কাছে খুব খারাপ লাগে। ওর পরিবারের সবাই সুন্দর। শুধু ও তেমন সুন্দর না। কিন্তু ও খুবই ভালো, এতে সন্দেহ নেই আমার। আজ পর্যন্ত ওর কোনো দোষ আমি ধরতে পারি নি। যা করি সব আমিই করি। সবসময় ও সাপোর্ট দেয় আমাকে। যেখানেই থাকুক, যত ব্যস্তই থাকুক খবর নেবে সবসময়। এ জন্য ওর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছি আমি। এখন মনে হয় ওকে ছাড়া আমি থাকতে পারব না। কিন্তু এটা কখনো সম্ভব নয়, তা জানি।

এখন ওর একটা চাকরি হয়েছে। আমার এখনো কিছুই হয়নি। আমি একা থেকে থেকে ওর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। কত যে চেষ্টা করেছি একটি চাকরির জন্য, তাও হয়নি। ও কোনোভাবেই ওরসঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করতে দেয় না; বলে- ও মারা যাবে। বিয়ে করেই হোক আর বন্ধু হিসেবেই হোক, যেভাবেই হোক ওর জীবনে যেন আমি থাকি। কিন্তু ওরসঙ্গে সম্পর্কটা বন্ধুতের ওপরে চলে গিয়েছে। যতই দিন যাচ্ছে ততই ওর প্রতি দুর্বল হচ্ছি। আমি জানি একটা কিছুতে ব্যস্ত থাকলে ওকে ভুলতে পারতাম। কিন্তু কিছুই পাচ্ছি না আমি করার মতো। এখন ওকে বিয়ে করা কি আমার ভুল সিদ্ধান্ত হবে? কোনোভাবেই আমি পরিবারের বাইরে গিয়ে বিয়ে করতে পারব না। সমাজও এটা মানবে না। এখন আমি কী করব?

আপু, আপনার সমস্যাটি আপনি যতটা গুরুতর মনে করছেন, আমার কাছে কিন্তু মোটেও ততটা গুরুতর লাগছে না। বরং আমার মনে হচ্ছে মনের বাঘে আপনাকে আগে খেয়ে ফেলছে। প্রথমত, ৩ বছরের বয়সে ছোট/বড় হওয়াটা আসলে কোন সমস্যাই নাই। দিন বদলেছে, এখন স্ত্রী বয়সে বড় এই ব্যাপারটা সমাজে যথেষ্ট সহজ ভাবেই গ্রহন করা হয়। ৩ বছর খুবই কম গ্যাপ, এটা নিয়ে অস্থির হবার কিছু নেই। তাছাড়া একবার লেখাপড়া শেষ করে চাকরি জীবনে ঢুকে পড়ার পর কে লেখাপড়ায় জুনিয়র ছিল কে সিনিয়র ছিল এটা নিয়ে কেউই ভাবে না। ছেলেটি যদি একটি ভালো চাকরি করে নিজেঁকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, আপনি যদি একটা ভালো কাজের মাঝে জড়িয়ে ভালো ইনকাম করেন তাহলে কোন পরিবারই আসলে খুব একটা আপত্তি করার কথা নয়। দেখতে ভালো কি মন্দ আপনারা দুজন, সেইসব ভাবনা ভাবা বাদ দিন। বরং খুব ভালো করে ভেবে দেখুন কয়েকটি জিনিস-

আপনি কি ছেলেটির ব্যাপারে সিরিয়াস? আপনি কি যে কোন মূল্যে তাঁর স্ত্রী হতে চান?
ছেলেটি কি আপনার ব্যাপারে ১০০ ভাগ সিরিয়াস, সে কি আসলেই আপনাকে বিয়ে করতে চায় আর বিয়ে করার জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে পারবেন?

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*