ঘুমানোর আগে যে ৫টি কাজ করতে বলেছেন মহানবী (সাঃ)

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখনই ঘুমাতে যান তখনই ৪টি কাজ করতেন। মূলত ঘুমানোর আগে মহানবী (সা.) যে কাজ করতেন সেই সুন্নাতগুলি মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই করা উচিত।

মহানবী (সা.) ঘুমানোর আগে এই ৪টি কাজ করতেনঃ-

১। ভালোভাবে বিছানা ঝেড়ে নিতেন। -(বুখারীঃ ৬৩২০)

২। ঘরের দরজা আল্লাহর নামে বন্ধ করতেন। -(বুখারীঃ ৫৬২৩)

৩। শয়নের সময় দু’আ পাঠ করতেন (যেমনঃ ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আ’মুতু ওয়া আহইয়া’)। -(বুখারীঃ ৬৩১৪)

৪। ডান কাৎ হয়ে শয়ন করতেন। -(বুখারীঃ ৬৩১৫)

এছাড়া মহানবী (সা.) ঘুমানোর আগে ৫টি কাজ করতে বলেছেনঃ-

১। সাধারণত সতর খুলা অবস্হায় না শোয়া। -(তিরমিযীঃ ২৭৬৯)

২। বিনা কারণে উপুড় হয়ে শয়ন করতে নিষেধ করেছেন। -(তিরমিযীঃ ২৭৬৮)

৩। ঘুমানোর সময় আগুনের বাতি জ্বালিয়ে না রাখা। -(তিরমিযীঃ ১৮১৩)

৪। দুঃস্বপ্ন দেখলে পার্শ্ব পরিবর্তন করে শোয়া। -(মুসলিমঃ ৫৯০১)

৫। নাপাক অবস্থায় ঘুমাতে হলে শরীরের নাপাক স্থান ধুয়ে অযু করে নেয়া। -(বুখারীঃ ২৮৮)

ভালোবাসা বৃদ্ধি করতে যে আয়াত পড়ে মিষ্টান্ন দ্রব্যে ফুঁ দিয়ে সঙ্গীকে খাওয়াবেন

স্ত্রীকে সর্বদা মনে রাখতে হবে স্বামীই তার কর্তা। সাংসারিক জীবনে একটু-আধটু ঝগড়া হয়েই থাকে। অধিকাংশ সময় এসব ঝগড়ার সূচনা হয় তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে।

এক্ষেত্রে পরস্পর সামান্য ছাড় দিলেই মিটে যায় অনাকাক্সিক্ষত রাগ-অভিমান। বুদ্ধিমানরা তা-ই করেন। তারপরও কোনো কারণে স্ত্রীর ওপর স্বামী রেগে গেলে বা ভালোবাসা কমে গেলে স্ত্রীকে যে আয়াত পড়তে হবে।

আর স্ত্রীর wife যদি কোনো দোষ থাকে তাহলে ভুল স্বীকার করে মাফ চেয়ে নেয়া উচিত। অনেকে ভাবতে পারেন আমার তো কোনো দোষ নেই, আমি তোশামোদ করতে যাব কেন? আসলে এ অবস্থায় স্ত্রী নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও যদি স্বামীর husband আনুগত্য প্রকাশ করে তাহলে স্বামীর হুঁশ আসার পর স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।

যদি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত স্বামীর রাগ থাকে তাহলে নিরিবিলি বা একাকি অবস্থায় স্বামীকে প্রকৃত বিষয়টি তুলে ধরবে এবং নিজের অন্যায় থাকলে ক্ষমা চেয়ে নিবেন।

কোনো কাজ না করেই নগদ অর্থ উপার্জন করুন

স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসা কমে যায় তাহলে কোরআনের একটি আয়াত পড়ে কোনো মিষ্টান্ন দ্রব্যে ফুঁ দিয়ে স্বামীকে খাওয়ালে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা বাড়বে ইনশাআল্লাহ। আয়তটি হলো وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُوا إِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ أَنَّ الْقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا وَأَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعَذَابِ

বাংলা উচ্চারণ : ওয়া মিনান্ না-সি মাইঁ ইয়াত্তাখিযু মিন্দূ-নিল্লা-হি আন্দা-দাইঁ ইয়ুহিব্বূনাহুম্ কাহুব্বিল্লাহ্; ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ আশাদ্দু হুব্বাল্লিল্লাহ্; ওয়ালাও ইয়ারাল্লাযীনা জোয়ালামূ ইয্ ইয়ারাওনাল্ ‘আযা-বা আন্নাল্ কুওওয়াতা লিল্লা-হি জ্বামীআও ওয়া আন্নাল্লা-হা শাদীদুল আযা-ব।

বাংলা অনুবাদ : আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে, তাদেরকে আল্লাহকে ভালোবাসার মতো ভালোবাসে।

আর যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহর জন্য ভালোবাসায় দৃঢ়তর। আর যদি জালেমগণ দেখে, যখন তারা আজাব দেখবে যে, নিশ্চয় সকল শক্তি আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আল্লাহ আজাব দানে কঠোর। [সুরা বাকারা : ১৬৫]।

নামাজে যেসব কাজের গুরুত্ব ও ফজিলত বেশি…

ঈমান লাভের পর মানুষের প্রথম এবং প্রধান ইবাদত হলো নামাজ। নামাজের একটি বিধান হলো তা জামাআতের সঙ্গে আদায় করা। জামাআতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা ওয়াজিব বা আবশ্যক।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে জামাআতে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে জোর নির্দেশ প্রদান করেছেন। আর জামাআতের ব্যাপারে অবহেলায়ও রয়েছে কঠোর সতর্কতা।

জামাআতে নামাজে অংশগ্রহণের বিষয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক বেশি গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। সে সম্পর্কে হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনাও রয়েছে।

জামাআতে নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত- কোনো এক নামাজে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু লোককে পেলেন না। তখন তিনি বললেন, ‘আমার ইচ্ছে হয়, কাউকে কাঠ-খড়ি সংগ্রহ করতে বলি। তারপর আজান দিতে বলি।

তারপর কাউকে নামাজ পড়াতে বলি। অতপর আমি তাদের কাছে যাই যারা জামাতে আসে না এবং কাঠ-খড়ি দিয়ে তাদেরকেসহ বাড়িঘর জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেই।’ (বুখারি, মুসলিম)। জামাআতে নামাজের ফজিলত বর্ণনা প্রিয়নবি বলেছেন, একাকি নামাজ আদায়ের চেয়ে জামাআতে নামাজ আদায়ে রয়েছে সাতশ’ গুণ বেশি মর্যাদা। (বুখারি, মুসলিম)

ইশা ও ফজর নামাজের জামাআতের গুরুত্ব- হজরত উবাই ইবনে কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ফজরের নামায পড়ালেন।

সালাম ফিরিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, অমুক কি (জামাআতে) এসেছে? লোকেরা বলল, ‘জী না’। তারপর আরেকজনের নাম নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, অমুক কি আছে? লোকেরা বলল, ‘জী না’।

তিনি বললেন, এ দুই নামাজ (ইশা ও ফজর) মুনাফেকদের জন্য আদায় করা সবচেয়ে কঠিন। তোমরা যদি জানতে যে, এই দুই নামাজে কী পরিমাণ সওয়াব নিহিত রয়েছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে (জামাআতে) অংশগ্রহণ করতে।’ (আবু দাউদ, ইবনে খুজায়মা)

ইশা ও ফজর নামাজের গুরুত্ব বেশি হওয়ার কারণ হলো এ সময়ে মানুষ পরিবারের লোকদের সঙ্গে একান্তে সময় কাটায় কিংবা বিশ্রাম করে। ফলে জামাআত দুটিতে মানুষের অবহেলা ও গাফলতি বেশি হয়ে থাকে। তাই হাদিসে এ দুই ওয়াক্তের প্রতি বেশি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করা হয়েছে।

তাকবিরে উলা ও প্রথম কাতারে অংশগ্রহণের ফজিলত- জামাআতে নামাজ আদায়ের সময় তাকবিরে উলা তথা প্রথম তাকবির থেকে জামাআতে অংশ গ্রহণ করা ও প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর ফজিলত অনেক বেশি।

হাদিসে এসেছে- ‘জামাআতের প্রথম কাতার (সম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে) ফেরেশতাদের কাতারের অনুরূপ। তোমরা যদি জানতে যে, এটা কত মর্যাদাপূর্ণ তাহলে এর জন্য প্রতিযোগিতা করতে।’

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ৪০ দিন তাকবিরে উলার সাথে জামাতে নামায আদায় করবে তার জন্য দুটি মুক্তিনামা লেখা হবে। (তার একটি হলো) জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং (অন্যটি হলো) নেফাক থেকে মুক্তি।’ (তিরমিজি)

মুসলিম উম্মাহর উচিত জামাআতে নামাজ আদায়ে আগে থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করা আবশ্যক। যেন ধীরস্থির ভাবে মসজিদে গিয়ে যথাযথভাবে সুন্নাত নামাজ আদায় করে প্রথম কাতারে তাকবিরে উলার সঙ্গে নামাজ আদায় করা যায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জামাআতে নামাজ আদায় করার মাধ্যমে ঘোষিত ফজিলত ও মর্যাদা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*