এক প্রসূতির গর্ভের নবজাতককে তিন খণ্ড করল নার্স!

গর্ভের নবজাতককে- নবজাতকের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে রাখা হয় ডাস্টবিনে।কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফাতেমা বেগম নামের এক প্রসূতির সাথে এই নির্মম ঘটনা ঘটে। এই প্রসূতির গর্ভের নবজাতককে তিন খণ্ড করে ফেলেছেন দুই নার্স।

এ অবস্থায় প্রসূতির জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে পেটে সন্তানের মাথার অংশ রেখে তড়িঘড়ি করে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অপারেশন চালিয়ে রোববার ওই প্রসূতির গর্ভ থেকে সন্তানের মাথার অংশ বের করেন। বর্তমানে প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটলেও দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীল মেডিকেল অফিসার আহসানুল হক ও ডা. নীলা পারভীন কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবির বলেছেন, এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত করে অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোগীর স্বজনরা জানান, উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের রিকশাচালক সেলিম মিয়ার স্ত্রী প্রসূতি ফাতেমা বেগম (৩০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. নীলা পারভীনের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়মিত রোগী ছিলেন।

শনিবার দুপুর দেড়টায় ওই চিকিৎসকের কাছে আসলে তিনি আলট্রাসনোগ্রামসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান রোগীর অবস্থা ভালো নয়, ভালো কোনো হাসপাতালে তার জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

পরে রোগীর স্বজনরা দুপুর আড়াইটায় দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সির দায়িত্বে থাকা ডা. রোমানা পারভীনের তত্ত্বাবধানে ভর্তি করান।

রাতে দায়িত্বরত দুইজন সিনিয়র নার্স আছিয়া আক্তার, ঝরনা বেগম ও আয়া জেসমিন আক্তার ডলি প্রসবের চেষ্টা করে নবজাতকের হাত ও নাড়িভুঁড়ি ছিঁড়ে বের করে আনলেও মাথা বের করতে পারেননি।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন এবং ওই নার্স ও আয়া খণ্ডিত দেহ ফেলে দিয়ে বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালান।

রোববার সকাল ৯টায় পথচারীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশিক্ষণ ভবনের পাশে ওই নবজাতকের খণ্ডিত একটি হাত ও নাড়িভুঁড়ি পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রচার হলে শত শত লোকজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করতে থাকেন।

প্রথমে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও আয়াসহ কেউ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেননি। পরে দায়িত্বরত নার্স ও আয়াদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসে। তারা জানান, বাচ্চাটি মৃত হওয়ায় প্রসব করাতে গিয়ে ছিঁড়ে যায়।

ঘটনা অনুসন্ধানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহাম্মদ কবীর উপজেলা কমপ্লেক্সের গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট তামান্না আফতাব সোলাইমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রসূতি ফাতেমার ভাই ইউছুফ মিয়া বলেন, শনিবার দুপুরে বোনকে ভর্তি করানোর পর রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় নার্সদের কাছে জানতে চাই, তারা বোনের প্রসব করাতে পারবেন কিনা। কিন্তু নার্সদের আশ্বাসে অপেক্ষা করি।

রাতে জানতে পারি বাচ্চাটির মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে নার্সরা। বোনের অবস্থা খারাপ দেখে রাতেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি এবং সকালে অপারেশনের মাধ্যমে নবজাতকের মাথাটি বের করা হয়।

রাত্রীকালীন ডিউটিরত মেডিকেল অফিসার ডা. আহসানুল হক মিলু বলেন, প্রসূতির নবজাতকের মাথা থেকে দেহ আলাদা করার বিষয়টি গোপন রেখে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাকাজনক বলে জানিয়ে কর্তব্যরত নার্সরা কুমেক হাসপাতালে স্থানান্তরের কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. নীলা পারভীন জানান, ওই প্রসূতি তার নিয়মিত রোগী ছিল। আলট্রাসনোতে শিশুটি মৃত মনে হওয়ায় রোগীর অভিভাবককে কুমেক হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহাম্মদ কবীর বলেন, নার্সদের আয়ত্তের বাইরে থাকার পরও ডেলিভারির চেষ্টা করা, কারোর সহযোগিতা চাওয়া বা না জানিয়ে ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা, যা কোনোভাবেই পেশাগত দায়িত্বে পড়ে না। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানলে অবাক হবেন, যেভাবে ২১টি বি‌য়ে করেন এই যুবক

প্রথমে প্রেম ও পরে বিয়ের ফাঁদে ফেলে বিয়ের পূর্বেই বিভিন্ন অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিলো তার পেশা। সর্বশেষ বিয়ে করতে এসে জানাজানি হয়ে যায় বিষয়টি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়ের বাবা সেই প্রতারক যুবককে বেঁধে রেখে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন। এসময় তাকে তার আসল মা দেখতে আসলে তাকেও আটক করে মেয়ের পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামে। প্রতারক ছেলেটিকে আটক করা হয় জেলার রানীশংকৈল উপজেলা থেকে। পরে তাকে সেখান থেকে ওই গ্রামে নিয়ে আসা হয়।

এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চ‌ল্যের সৃষ্টি করেছে। তার আসল নাম মো. আখিরুল ইসলাম। বয়স ৩৫ বছরের কাছাকাছি। পিতা মৃত- আবিদ হাসান। ঠাকুরগাও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার জসিয়া (রাজবাড়ী) এলাকায় তার বাড়ী। বর্তমানে তার অবিভাবক মা আরিফা বেগম।

সে প্রতারণার সময় আখিরুল ওরফে আফিরুল ওরফে বাপ্পি নাম ধারণ করে। কখনো গানের স্কুলের মাস্টার, কখনো বিএসসি শিক্ষক, কখনো কোচিং সেন্টারের শিক্ষক আবার কখনো কোরআনের হাফেজ সেজে প্রতারণা করে আসছিলো।

প্রতারণায় ফেঁসে যাওয়া মেয়ের পরিবারের মাধ্যমে জানা গেছে, ৩/৪ মাস পূর্বে স্থানীয় ঘটক শামশুল আলম ও নজরুল ইসলামের সহযোগিতায় এই ছেলের সাথে পরিচয় হয়। ছেলে তার মামাত ভাইয়ের জন্য মেয়ে দেখতে আসেন।

মেয়ে দেখতে এসে সে নিজেকে বিএসসি শিক্ষক পরিচয় দেয় এবং পরে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। যেহেতু ছেলে বিএসসি শিক্ষক তাই মেয়ের পরিবারও প্রস্তাবটি লুফে নেয়। চলে টাকা লেনদেনসহ বাড়ী ওঠা বসা।

কনের ছোট বোনকে একদিন বেড়াতেও নিয়ে যায়। দেখানো হয় ছেলের ছাদ দেওয়া পাকা বাড়ী। তার মা সাজানো হয় ওই বাড়ীর এক মহিলাকে। যথারীতি আদর আপ্যায়ন এবং স্নেহও করে কনের ছোট বোনকে।

বলে মা হজ করে এসেছেন।তিনি সরকারী চাকরি করতেন।এখন অবসরে আছেন।এসব মুখরোচক গল্প বানিয়ে মেয়ে ও মেয়ের পরিবারকে আয়ত্বে নেন তিনি।

শুরু হয় বিয়ের আলোচনা। চুড়ান্ত হয় বিয়ের যৌতুক ৮লক্ষ টাকা। দফায় দফায় নগদ টাকা ও মোটরসাইকেলসহ দুই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয় সে।

বিয়ের তারিখ নির্ধারিত হয় ঈদের পঞ্চম দিন কিন্তু এর মধ্যে ছেলে আর ফোন রিসিভ না করায় কনের বাবার মনে সন্দেহ দেখা দেয়। ছেলের খবর নিতে রানীশংকৈল রাজবাড়ী এলাকায় গেলে ওই নামে কোন লোককে আর পায়নি এবং একে একে অসংখ্য প্রতারণার খবর বের হয়।

তারপরে মেয়ের পরিবার বুঝতে পারে তার দেওয়া নাম ও পেশা ভুয়া। তার দেওয়া বাপ্পি নামটি এলাকায় কেউ চেনে না। তার নাম আখিরুল ওরফে আফিরুল। সে কোন বিএসসি শিক্ষকও নয়, হাফেজও নয় কিংবা নয় কোন গানের স্কুলের মাস্টার। তার দেয়া সকল পরিচয় ভুয়া।

সে একজন প্রতারক। সে পলাতক ছিল। অনেক কৌশল করে তাকে আটক করা সম্ভব হয়। এসব কথা বলছিলেন মেয়ের বাবা। প্রতারক ছেলেটিকে আটক করে রাখায় ছেলের আসল মা আরিফা বেগম বালিয়াডাঙ্গীর মহিষমারী গ্রামে আসলে তাকেও আটক করা হয়।

দুওসুও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, ঘটনাটি আমার গ্রামের। মেয়ে ও মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে প্রতারক ছেলেটি যে টাকা নিয়েছে তা ফেরত দিলে ছেলেটি ও তার মাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

প্রতারণায় ফেঁসে যাওয়া মেয়ে (কনে) বলেন, সে আমাকে তার মামাত ভাইয়ের জন্য দেখতে এসেছিল। তার মামাত ভাই এসএসসি পাশ। আমি বিএসএস এ পড়ি। সে নাকি বিএসসি শিক্ষক সে আমাকে বিয়ে করবে মর্মে প্রস্তাব দেয়। আমি তার প্রস্তাবে রাজী হয়ে যাই কিন্তু পরে জানতে পারি সে প্রতারক।

তাকে আটকের পর আমাদের বাড়ীতে ৩/৪ জন লোক তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে এসেছিল। তাদের কাছে শুনেছি সে আরো ৫/৬ টি বিয়ে করেছে। তবে ওই এলাকার শ্রমিকনেতা আনোয়ার জানান, তার ২০/২১ টির মতো এরকম প্রতারণার ঘটনা রয়েছে।

মেয়ের বাবা আবেদুর জানান, সে তার মায়ের অপারেশনের কথা বলে টাকা নিয়েছে। তার চাকরির কথা বলে টাকা নিয়েছে। আসলে সবই ভুয়া। ওই প্রতারকের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে দেব না। আমার দেওয়া টাকাগুলো পেলেই তাকে ছেড়ে দেব।

আখিরুল ওরফে আফিরুল জানান, টাকা নিয়েছি সত্যি। যদি তারা চায় তাহলে আমার বিয়ে করতে কোন আপত্তি নাই। না হলে কষ্ট করে হলেও তাদের টাকা আমি ফেরত দিয়ে দেব।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এতোগুলো নয় আগে মাত্র একটি বিয়ে করেছি। আর একটি বিয়ে দিতে চেয়েছিল ৭ মাস পূর্বে তখন ঢাকা পালিয়ে গিয়েলাম।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*