পরীক্ষাটার পরে বিয়া হইত, ১০টা বছর একটা স্কুলে কাটাইছি: ‘বইনডা যে মইরা গেল গা’

দিনদুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে নিজেদের কলেজের অদূরে বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন একঝাঁক শিক্ষার্থী। জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার দিয়ে মিরপুর থেকে উত্তরাগামী কিছু গাড়ি যেন উড়তে উড়তে আসছিলো। শিক্ষার্থীরা তাই দাঁড়িয়েছিলেন পাশের ঢাকা সেনানিবাসের দেয়ালঘেঁষে। তবে তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। দেয়ালে ঠেকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের পিষে দিল দ্রুত ছুটে আসা জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস।

ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুই শিক্ষার্থী দিয়া খান মীম (১৭) ও আবদুল করিম রাজীব (১৭)।সহপাঠীকে হারিয়ে একই কলেজের এক শিক্ষার্থীর আর্তনাদ। শিক্ষার্থী বলে ওঠে, ‘বাধা দিয়েন না। বাধা দিয়েন না। একটা কথা বলি? বইনডা মইরা গেছে। বইনডা মইরা গেছে গা। বইনডার পরীক্ষাটার পরে বিয়া হইত। বইনডা যে মইরা গেল গা। নিজের ফ্রেন্ড, ১০টা বছর একটা স্কুলে কাটাইছি। কলেজটা ছুটি হইব। কলেজটা ছুটি হইব তো ওস্তাদ। কলেজটা ছুটি হইয়া গেছে। আপনে আমার বাপের বয়সী। আপনেরে চাচা ডাকতাছি। আমারে বাধা দিয়েন না। মাফ চাই আপনার কাছে, প্লিজ। এই রকম কইরেন না। থামতে বইলেন না। সবকিছু কন করতে রাজি আছি। আপনে যদি কন জেলে যাইতে কোনো সমস্যা নাই। জেলে যামু।’এ সময় পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এইডা কি বলো? জেলে যাইবা কেন?’কান্নারত শিক্ষার্থী বলেন, ‘এইডাই তো কথা। আপনা গো পুলিশের আর কী কাজ? কী কাজ বলেন।

আপনারা বলেন, ঐখানে একটা বাসও থামায় না। স্টুডেন্ট দেখলেই ওদের পিকআপ বাইড়া যায়গা। কিয়ের এত পিকআপ? আমরা পড়ালেখা করতাছি না? কিল্লেগা আমগোর সাথে রাফ বিহ্যাভ করতেছে উনারা?’ এই ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।
এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়, শতাধিক বাস ভাঙচুর করে। বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*